|
Weather Data Source: forecast for Dhaka
ভ্রমণ খবর প্রতিদিন
তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার, বুকিং বাতিলে বিপাকে পর্যটন খাত

 

দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার বর্তমানে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। তীব্র তাপদাহ, উচ্চ আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটকদের বড় একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ত্যাগ করছেন। অনেকেই আবার আগাম বুকিং দেওয়া হোটেল কক্ষ বাতিল করে ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। ফলে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক স্থবিরতা।

সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা স্কুল-কলেজের অবকাশে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দুপুরের প্রচণ্ড রোদ এবং ভ্যাপসা গরমের কারণে পর্যটকদের বড় অংশ হোটেলকেন্দ্রিক অবস্থান নিতে বাধ্য হলেও সেখানেও মিলছে না স্বস্তি।

পর্যটকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক হোটেল জেনারেটরের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে তা নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গরমে কষ্ট পেয়ে অনেকেই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাড়ি ফিরছেন।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, অবকাশ যাপনকে আনন্দময় করার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এলেও বাস্তবে তাদের সময় কেটেছে গরম ও বিদ্যুৎ সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দিনে বাইরে বের হতে না পারা এবং হোটেল কক্ষে অস্বস্তিকর পরিবেশের কারণে তারা সফর সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবার নিয়ে আসা অনেক পর্যটকও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে অবস্থান করা পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লিফট ব্যবহারে অনিশ্চয়তা এবং কক্ষের ভেতরে অসহনীয় গরম তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে নেতিবাচক করে তুলেছে।

এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে হোটেল শিল্পে। হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক প্রতিষ্ঠান কক্ষভাড়ায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। তবুও প্রত্যাশিত সংখ্যক অতিথি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং আগাম বুকিং বাতিলের প্রবণতা বেড়েছে এবং অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যেও সময়ের আগে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

শুধু হোটেল ব্যবসাই নয়, সংকটের প্রভাব পড়েছে সৈকতকেন্দ্রিক অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ওপর। ছাতা ভাড়া ব্যবসায়ী, ঘোড়াচালক, ফটোগ্রাফার, ঝিনুক ও স্মারকসামগ্রী বিক্রেতাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন পেশার মানুষের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় তাদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হোটেল পরিচালনার ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়, যার ফলে জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জেনারেটরও অচল হয়ে পড়ছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি হওয়ায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এ কারণেই খোলা পরিবেশে অবস্থান করা অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ছে। তবে আগামী দিনগুলোতে মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একটি পর্যটন কেন্দ্র। তাই পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু হোটেল শিল্প নয়, সমগ্র পর্যটন অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।

নবীনতর পূর্বতন