শনিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে মেট্রোরেলের খামারবাড়ি মোড় সংলগ্ন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের ওপর থেকে ধাতব এক টুকরো যন্ত্রাংশ নিচে পড়ে যায় এবং তা সরাসরি আবুল কালামের মাথায় আঘাত হানে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল কালাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক—৫ বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ এবং ৩ বছরের মেয়ে সুরাইয়া আক্তারকে রেখে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, খামারবাড়ি মেট্রোরেল এলাকার এই অংশটি প্রকল্পের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, টার্নিং এলাকার গঠনগত কারণে এখানে যান্ত্রিক চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। এর আগেও ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঠিক একই স্থানে একটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হলেও এক বছর পর আবারও একই জায়গায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এলাকাটির সমস্ত পিলার ও যন্ত্রাংশের পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করতে হবে এবং চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকেও দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নিরূপণে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনার পর রাজধানীতে মেট্রোরেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, একটি দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের আলো নিভিয়ে না দেয়।

