
ইনকা সভ্যতার ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা শহর ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো। 1534 সালে স্প্যানিশদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই শহরটি দক্ষিণ গোলার্ধে ঔপনিবেশিক স্প্যানিশ স্থাপত্যের বৃহত্তম এবং অক্ষত স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। বিখ্যাত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা এখানে রাত কাটালেও এই শহর সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে না প্রায় কেউই। অথচ এই শহরটি কিনা 1978 সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে তালিকাভুক্ত হয় এবং যা ছিলো বিশ্বের প্রথম কোন রাজধানী শহর যা এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলো। এই শহরের বেশীরভাগ এলাকায় পায়ে হেঁটে অথবা বাইসাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়াতে হয়, চোখে পড়বে না তেমন কোন যান্ত্রিক বাহন যত্রতত্র। এই শহরের পাথুরে রাস্তার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে দেখা মিলবে অনন্য সকল স্থাপত্য কলার নির্মান। এই শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো সানফ্রান্সিসকো স্কয়ার, বহু দর্শনার্থী এখানে ভিড় করে প্রতিদিন, বিশেষ করে এখানকার চার্চটি খুবই জনপ্রিয়। এই শহরটি ভিনদেশী পর্যটকদের কাছে উপেক্ষিত হলেও ইকুয়েডরের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি স্থান। এখানকার ইয়াকু ওয়াটার মিউজিয়াম, পার্ট মিউজিয়াম, পার্ট ওয়াটার পার্ক, মিউজেও দেল পাসিলো প্রভৃতি আপনাকে বিমোহিত করবে নিশ্চিতভাবে। এই শহরের রেস্তোরাঁ এবং পানশালা আপনাকে ঐতিহ্যবাহী ইকুয়েডরের নানান খাবার এবং পানীয়র আসল স্বাদ দিতে সদা প্রস্তুত থাকে। আর এতসব আয়োজন সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিকট অবহেলিত এই কুইটো শহর প্রকৃত অর্থেই একটা আন্ডার রেটেড টুরিস্ট ডেস্টিনেশন।